শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়ছেে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অকাস’ চুক্তি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করবে। তিন জাতি নিরাপত্তা চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিপজ্জনক এক চুক্তি, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যকে নষ্ট করবে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।
বিবিসি’র এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ‘অকাস’ চুক্তির সময় ঘোষণা করা হয়েছিল,এই চুক্তির আওতায় ক্রুজ মিসাইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিও থাকবে।
এদিকে, সম্প্রতি তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, প্রতিবেশী দেশ জাপানের যেকোন স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম তাদের মিসাইল। উত্তর কোরিয়ার ক্রজ মিসাইল ১৫শ’ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। আগেও ক্রজ মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। তবে, এবারেরটি দূরত্বের পাল্লায় টপকে গেছে আগের সবগুলোকে। ধারণা করা হচ্ছে, পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষমতা থাকতে পারে নতুন এই মিসাইলে। ক্রজ মিসাইলের আরেকটি বিশেষত্ব কখনো কখনো রাডারকে ফাঁকি দেয়ার ক্ষমতা। রাডারের ধরা পরলেও তা হয় একেবারে শেষ মুহূর্তে।
এদিকে, ‘অকাস’ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় ফ্রান্সের। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচীব বেন ওয়ালেন্সের সাথে আলোচনা বাতিল করেছে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফ্লোরেন্স পারলে। এর আগে ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তির ভয়ঙ্কর পরিণতির আশঙ্কায় ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়। চীনকে মোকাবিলায় সম্প্রতি এই নিরাপত্তা চুক্তি ঘোষণা করে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। ত্রিদেশীয় এই চুক্তির ফলে অস্ট্রেলিয়া ফ্রান্সের নকশায় সাবমেরিন তৈরির একটি চুক্তি বাতিল করে। এর আগে ফ্রান্স এক বিবৃতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরকে ‘পেছন থেকে বা পিঠে ছুরি মারা’ বলে অভিহিত করে।
‘অকাস’ নামের চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন অর্জনে সহযোগিতা করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গত পঞ্চাশ বছরে যুক্তরাজ্যের বাইরে প্রথম তার সাবমেরিন প্রযুক্তি অন্য কাউকে দিতে যাচ্ছে। মূলত বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের প্রভাব কমাতেই এই চুক্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ঘোষণায় চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছে চীন। একে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘সংকীর্ণ মানসিকতা’ হিসেবে মন্তব্য করেছে বেইজিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই জোট গঠনের কারণে আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।